বাংলা ক্যালেন্ডার বিডি
চাঁদের বিভিন্ন কলার (তিথি) ধারাবাহিক দৃশ্য

লেখা · পঞ্জিকা ও ঐতিহ্য

তিথি ও পঞ্জিকা: অমাবস্যা, পূর্ণিমা, একাদশীর মানে কী?

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পঞ্জিকা খুললেই চোখে পড়ে অচেনা কিছু শব্দ — প্রতিপদ, ষষ্ঠী, একাদশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা। এগুলো আসলে "তিথি" — চাঁদের একটা নির্দিষ্ট অবস্থানকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত পুরনো একটা মাপকাঠি, যা আজও বাংলার পঞ্জিকা, পূজা-পার্বণ আর দৈনন্দিন রীতিনীতির ভিত্তি হয়ে আছে।

তিথি আসলে কী?

তিথি মানে হলো চাঁদ আর সূর্যের মধ্যে কৌণিক দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা একটা সময়ের একক। চাঁদ যখন সূর্যের সাপেক্ষে আকাশে ১২ ডিগ্রি এগিয়ে যায়, তখন একটা তিথি শেষ হয়ে পরেরটা শুরু হয়। পুরো একটা চান্দ্র মাসে (অমাবস্যা থেকে পরের অমাবস্যা পর্যন্ত) এভাবে মোট ৩০টা তিথি থাকে।

যেহেতু তিথির দৈর্ঘ্য চাঁদের গতির ওপর নির্ভর করে, আর চাঁদের গতি সবসময় সমান থাকে না, তাই একটা তিথি কখনো ২১ ঘণ্টায় শেষ হয়ে যেতে পারে, আবার কখনো ২৬ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই কারণেই পঞ্জিকায় প্রতিটা তিথি ঠিক কোন সময় শুরু আর শেষ হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া থাকে।

দুই পক্ষ: শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষ

একটা চান্দ্র মাসকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় — প্রতি ভাগে থাকে ১৫টা করে তিথি।

শুক্লপক্ষ

অমাবস্যার পর শুরু হয়, চাঁদ ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে (waxing moon), শেষ হয় পূর্ণিমায়।

প্রতিপদ → দ্বিতীয়া → তৃতীয়া → চতুর্থী → পঞ্চমী → ষষ্ঠী → সপ্তমী → অষ্টমী → নবমী → দশমী → একাদশী → দ্বাদশী → ত্রয়োদশী → চতুর্দশী → পূর্ণিমা

কৃষ্ণপক্ষ

পূর্ণিমার পর শুরু হয়, চাঁদ ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে (waning moon), শেষ হয় অমাবস্যায়।

প্রতিপদ → দ্বিতীয়া → তৃতীয়া → চতুর্থী → পঞ্চমী → ষষ্ঠী → সপ্তমী → অষ্টমী → নবমী → দশমী → একাদশী → দ্বাদশী → ত্রয়োদশী → চতুর্দশী → অমাবস্যা

গুরুত্বপূর্ণ তিথিগুলোর অর্থ

অমাবস্যা — যেদিন চাঁদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকে। অনেক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান আর পিতৃতর্পণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে ধরা হয়।

পূর্ণিমা — যেদিন চাঁদ সম্পূর্ণ গোলাকার ও উজ্জ্বল দেখা যায়। বহু উৎসব (যেমন বৈশাখী পূর্ণিমা) এই দিনকে ঘিরে পালিত হয়।

একাদশী — প্রতি পক্ষের ১১তম তিথি, মাসে দুইবার আসে। অনেকে এই দিনে উপবাস পালন করেন, ধর্মীয়ভাবে বিশেষ পবিত্র দিন হিসেবে গণ্য।

পঞ্জিকা কীভাবে কাজ করে?

পঞ্জিকা হলো এমন একটা পঞ্জি বা তালিকা, যেখানে প্রতিটা দিনের তিথি, নক্ষত্র, যোগ, করণ এবং বার — এই পাঁচটা উপাদান একসাথে হিসাব করে দেখানো হয়। এই কারণেই একে বলা হয় "পঞ্চাঙ্গ" (পাঁচ অঙ্গ)। কৃষিকাজের উপযুক্ত সময়, বিয়ে বা গৃহপ্রবেশের শুভ দিন, ধর্মীয় উৎসবের তারিখ — সবকিছুর ভিত্তি এই পঞ্জিকার হিসাব।

আজকের দিনের তিথি, নক্ষত্র ও অন্যান্য পঞ্জিকা তথ্য জানতে আমাদের পঞ্জিকা পাতা দেখে নিতে পারো, আর পুরো মাসের হিসাব দেখতে চাইলে মাসিক ক্যালেন্ডার পাতায় যেতে পারো। বাংলা সন কীভাবে এই পঞ্জিকা ব্যবস্থার সাথে জড়িয়ে আছে, তার ইতিহাস জানতে পড়ে দেখো আমাদের বাংলা সনের ইতিহাস লেখাটিও।